প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের নানা শ্রেণি পেশার মানুষ ‘ভয়কে জয় করে’ কোভিড-১৯ টিকা নিতে কেন্দ্রে ভিড় বাড়ছে

শার্শা অফিস : যশোরের শার্শার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের নানা শ্রেণি পেশার মানুষ ‘ভয়কে জয় করে’ শেখ হাসিনার উপহারের অক্সফোর্ড এক্সাজেডিকা কোভিড-১৯ টিকা নিতে পেরে উচ্ছ্বসিত। এতে দিনকে দিন টিকাদান কেন্দ্রে ভিড় বাড়ছে বলে দাবি করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

প্রথমদিন ৬০জনকে টিকাদানের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। প্রথম ৯দিন ২ হাজার ১৯১ জনকে এবং পরবর্তী ১২দিন ৩ হাজার ৫৭০জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে। যা যশোর জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ। ভিআইপি ও জনপ্রতিনিধিদের টিকা দেওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখে ভয়ভীতি কাটিয়ে বেনাপোল, শার্শা, নাভারন, বাগআচড়া এলাকার নানা শ্রেণী পেশার মানুষ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকা নিতে আসছেন বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ইউসুফ আলি।

গ্রামের সংবাদকে  ইউসুফ বলেন, স্থানীয় এমপি শেখ আফিল উদ্দিন, উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মঞ্জু, বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাসনা শারমিন মিথি, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান, শার্শা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো: আব্দুল মুননাফ এর মত উপজেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সোমবার টিকা নিয়েছেন। এই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে টিকা কেন্দ্রে হুহু করে লোক আসতে শুরু করেছে। মানুষের মনে যে শঙ্কা ছিল তা কেটে গেছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, টিকা গ্রহনকারীরা সকাল থেকে এসে কেন্দ্রে ভিড় করছেন।

প্রায় ১৫কিলোমিটার দুর সামটা গ্রাম থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকা নিতে এসেছেন ষাটোর্ধ ফতেমা বেগম। তিনিও তার দুই ছেলে মুকুল হোসেন ও মিকাইল হোসেন টিকা নেন।
ফতেমা বলেন, করোনার টিকা নিয়ে গুজবে ভয় পেয়েলাম। এই জন্নি প্রথমে টিকা নিতি সাহস পাইনি। কিন্তু দেখলাম সবই ‘বাজেকথা’। দেশের লাখ লাখ মানুষ টিকা নোয়ার পরও ভাল (সুস্থ্য) আছে। তাই ছেলেদেরকে দিয়ে নিবন্ধন করে টিকা নিলাম। টিকা নোয়ার পর আমরা তিনজনই সুস্থ আছি।

ফতেমার মতোই দেশব্যাপী মানুষের মধ্যে টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে যে সংশয়, গুজব, ভয়ভীতি ছিল তা কেটে গেছে। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে শুরু করে উপজেলা শহর পর্যন্ত কেন্দ্রে টিকা নিতে মানুষের ভিড় বেড়েছে। প্রত্যেকটি টিকাকেন্দ্র যেন উৎসবস্থলে পরিণত হয়েছে। টিকা নিয়ে হাসিমুখে মানুষ বাড়িতে ফিরছে।

শনিবার সকালে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকাদান কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সেবা সহজীকরণ করতে টিকাদান কেন্দ্রতেই ফ্রি রেজিষ্ট্রেশন করা হচ্ছে। গ্রহণকারীরা ভোটার আইডি কার্ড ও একটি সচল মোবাইল ফোন নিয়ে রেজিষ্ট্রেশন বুথে যাচ্ছেন। সেখানে স্বেচ্ছাসেবকরা তাদের টিকা রেজিষ্ট্রেশন করে কার্ড সরবরাহ করছেন। পরে তারা একজন চিকিৎসকের কাছে গিয়ে পরামর্শ নিয়ে টিকা গ্রহণ করছেন। টিকা গ্রহণ শেষে ৩০ মিনিট সেখানে অবস্থান করছেন তারা।

বাগআচড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইলিয়াছ কবির বকুল বলেন, আমি পরিষদের সবাইকে নিয়ে টিকা নিতে এসেছি। সবাই টিকা নিলাম। কারো কোন সমস্যা হয়নি। শেখ হাসিনার উপহারের টিকা পেয়ে আমরা খুবই খুশি।

টিকা নেওয়ার পর কেমন আছেন জানতে চাইলে স্থানীয় এমপি শেখ আফিল উদ্দিন বলেন, খুব ভাল আছি। এখন পর্যন্ত কোন সমস্যা হয়নি। হাসপাতালে যেয়েই সহজেই টিকা নিয়েছি। গুজবে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। সবাই করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণ করুন, নিরাপদ থাকুন। সহজেই টিকার ব্যবস্থা করার জন্য দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

বেনাপোলের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মশিয়ার রহমান টিকা নিয়েছেন ১০দিন আগে। তিনি বলেন, টিকা নেওয়ার পর দিন শরীরে একটু ব্যথা ব্যথা অনুভব করেছিলাম। বিশ্রামে থাকায় পর দিনই তা সেরে গেছে। তারপর থেকে স্বাভাবিক কাজকর্ম করে বেড়াচ্ছি।

অক্সফোর্ড এক্সাজেডিকা কোভিড-১৯ টিকা সংবাদকর্মীসহ সবাইকে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, “টিকা নিয়ে নিজেকে অনেক হালকা লাগছে। মনে হচ্ছে, অনেক বড় একটা বোঝা নেমে গেল। কোনো টেনশনের কারণ নেই। কোনো ব্যাথাও পাইনি।”

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইউসুফ আলি বলেন, শনিবার পর্যন্ত পাঁচ হাজার ৭৬১জন মানুষ টিকা নিয়েছেন। আর রেজিষ্ট্রেশন করেছেন ৯হাজার ৮৫০জন। এ পর্যন্ত যারা টিকা গ্রহন করেছেন তাদের সাধারনত একটু মাথা ব্যথা ও সামান্য জ্বর ছাড়া তেমন কোন উপসর্গ দেখা যায়নি। খোঁজ নিয়ে দেখেছি ‘সবাই সুস্থ্য আছেন’। দিনকে দিন টিকা গ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *