প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ : গৌরবময় ৭১ বছর আওয়ামী লীগের

নিজস্ব প্রতিবেদক : মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। ১৯৪৯ সালের এই দিনে পুরান ঢাকার রোজ গার্ডেনে গঠিত হয় দলটি। পরবর্তী সময়ে ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে এদেশের গণমানুষের সংগঠনে পরিণত হয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ হয়ে ওঠে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংগঠনের অগণিত নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীসহ দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল এক বিবৃতিতে গৃহীত কর্মসূচি স্বাস্থ্যবিধি মেনে পালনের জন্য কর্মী-সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এ বছর সীমিত আকারে ও অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে সূর্যোদয়ের সময় কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। ঢাকায় ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে দলীয় শ্রদ্ধা নিবেদন। এছাড়া, স্বাস্থ্যবিধি মেনে আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দল টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করবেন।

এছাড়াও রাত সাড়ে ৮টায় ‘গণমানুষের দল আওয়ামী লীগ’ শীর্ষক ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হবে।

প্রতিষ্ঠালগ্নে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ নাম থাকলেও ১৯৫৫ সালে এ দলটি ধর্মনিরপেক্ষতাকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে। এর পুনঃনামকরণ হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে ছেষট্টির ছয় দফা এবং ঊনসত্তরের গণ-আন্দোলনসহ দীর্ঘ সংগ্রামের পর ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাঙালি লাভ করে স্বাধীনতা। পৃথিবীর মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের। দলটির নাম হয় ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’।

১৯৪৭ সালে সম্পূর্ণ দুটি পৃথক ভূখ-, স্বতন্ত্র ভাষা ও সংস্কৃতির অঞ্চল নিয়ে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মাত্র চার মাস ২০ দিনের মধ্যে তখনকার তরুণ যুব নেতা শেখ মুজিবুর রহমান (বঙ্গবন্ধু) ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি গঠন করেন সরকারবিরোধী ছাত্র সংগঠন ‘পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ’। এরই ধারাবাহিকতায় পরের বছর ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার স্বামীবাগে কেএম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর উদ্যোগে আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে গঠন করা হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ। জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি, প্রখ্যাত ভাষাসৈনিক টাঙ্গাইলের শামসুল হক সাধারণ সম্পাদক এবং তরুণ যুবনেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে (কারাবন্দি) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত হয় আওয়ামী (মুসলিম) লীগের প্রথম কমিটি।

আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ৬ দফা ঘোষণা করেন। সেই ৬ দফা গণ-আন্দোলনের পথ বেয়েই আসে ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান। সত্তরের নির্বাচনে বাঙালির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ ছিল তারই ধারাবাহিকতা। অবশেষে আসে সেই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ। একাত্তরে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের রক্ত আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের।

দীর্ঘ ৭১ বছরের পথ পরিক্রমায় দেশের বৃহত্তম ও উপমহাদেশের প্রাচীন রাজনৈতিক দলটি অনেক প্রতিকূলতা পার করেছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর অস্তিত্ব সংকটে পড়ে আওয়ামী লীগ। ১৯৮১ সালে দলের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দেশে ফেরেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার দৃঢ় ও বিচক্ষণ নেতৃত্বে পুনর্জাগরিত আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আবার সরকার গঠন করে দলটি। বর্তমানে টানা তৃতীয় দফায় রাষ্ট্র পরিচালনা করছে আওয়ামী লীগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *