পুলিশকে ‘মারধর’, যুবলীগ নেতাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরে দুই পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগে জেলা যুবলীগের সভাপতি রাজন সাহা রাজুসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার মনিরুজ্জামান জামালপুর শহরের বিয়ারা পলাশতলা এলাকার কামরুজ্জামানের ছেলে। তিনি যুবলীগের একজন কর্মী।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন জামালপুর শহরের গেটপাড় এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেল যোগে শহরে প্রবেশ করছিলেন মনিরুজ্জামানসহ তিন যুবক। এ সময় সার্জেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন মোটরসাইকেলের কাগজপত্র দেখাতে বলেন তাদের কাছে। কিন্তু মোটরসাইকেলটির কোন নম্বরপত্র ছিল না। পরে মনিরুজ্জামান ও তার লোকজন তার ওপর উত্তেজিত হয়ে কাগজপত্র দেখাতে অস্বীকার করেন। পরে ফোন করে মো. শুভ নামে একজনকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন তারা। ঘটনাস্থলে শুভ তাকে মোটরসাইকেলটি ছেড়ে দিতে বলেন অন্যথায় তার চাকরি খেয়ে ফেলার হুমকিও দেন। পরে মুঠোফোনে জেলা যুবলীগের সভাপতি রাজন সাহার সঙ্গে সার্জেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুনকে শুভ কথা বলিয়ে দেন। রাজন সাহা মোটরসাইকেলটি ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেন সার্জেন্টকে। কিন্তু তার অনুরোধে মোটরসাইকেলটি ছেড়ে না দেওয়ায়, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন রাজন সাহা। এ সময় সার্জেন্ট মোটরসাইকেলের কাগজপত্র না থাকায় প্রসিকিউশন (মামলা) লিখতে যান। তার প্রসিকিউশন লিখতে বাধা দেন সেখানে উপস্থিত থাকা যুবকরা। এক পর্যায়ে সার্জেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন ও পুলিশ সদস্য জুবায়ের হোসেনকে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন যুবকরা। এক পর্যায়ে তারা আটক মোটরসাইকেলের চাবিটি ছিনিয়ে নেন। পরে তিনি দ্রুত পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানায়। পরে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত হন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ মোটরসাইকেলটি জব্দ করেন এবং মনিরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যান। গত বৃহস্পতিবার রাতে ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

মামলায় জেলা যুবলীগের সভাপতি রাজন সাহা ওরফে রাজুসহ ১১ জনের নাম এবং অজ্ঞাত আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেমুজ্জামান জানান, পুলিশের উপর হামলার ঘটনা নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। একজনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে।

তবে এ বিষয়ে জেলা যুবলীগের সভাপতি রাজন সাহা রাজু জানান, পুলিশকে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। মোটরসাইকেল ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হলে পুলিশই উল্টো তার সাথে ও যুবলীগ নেতাকর্মীদের সাথে অশোভন আচরণ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *