দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি সংকটের কারণে ৬ কিলোমিটার তীব্র যানজট

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ী থেকে ঃ দৌলতদিয়াÑপাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি সংকটের কারণে ৬ কিলোমিটার তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি যাত্রীদের দুভোর্গের চরমে। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি সংকটের কারণে ৬ শতাধিক মালবোঝাই ট্রাক তিন দিন ধরে পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ৬শতাধিক ও ১শতাধিক যাত্রীবাহী বাস দৌলতদিয়া ঘাটে পারাপারের অপেক্ষা রয়েছে। ফলে দেশের দক্ষিণ অঞ্চল থেকে ঢাকাগামী এসব পরিবহনের চালক ও যাত্রীরা দুর্ভোগের শেষ নেই। প্রতিমাসে এ সড়কের যানবাহন বৃদ্ধি পেলেও ফেরি বাড়ছে না। পদ্মা নদীতে পানি ও ¯্রােত বৃদ্ধি পাওয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ লক্কর-ঝক্কর ফেরি মাঝে মধ্যেই নদীর মাঝপথে বিকল হয়ে পড়ছে। একটি ফেরি সর্বোচ্চ ৩০ বছর চলার নিয়ম। অথচ ১৯৮০ সালে ডেনমার্ক থেকে উন্নতমানের রো রো ফেরি শাহ আলী ও আমানত শাহ ক্রয় করে সরকার। প্রতিটি ফেরিতে ১৬-১৮টি বাস ট্রাক পারাপার করা যায়। এই ফেরি এখনো বিআইডব্লিউটিসি’র বহরে চালু রয়েছে। অথচ মাত্র দুই বছর আগে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যায় সন্ধ্যা মালতি নামে একটি ফেরি সরকার ক্রয় করে। এটি ৪/৫টি বাস-ট্রাক পারাপারের ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন। অথচ ফেরিটি ঘন ঘন অচল হয়ে পড়ছে। শনিবার দুপুর পর্য়ন্ত পাটুরিয়া ভাসমান কারখানায় ওই ফেরি মেরামতের কাজ চলছে। ঝরে বাতাসের মধ্যে চলাচল করতে হয়। রাতের আধারে ফেরি যানবাহন পারাপার করতে পারে না। বরিশাল থেকে ঢাকাগামী কাভার্ডভ্যান চালক ছাইমদ্দিন শেখ বলেন, শনিবার বেলা ৩টা পর্যন্ত দৌলতদিয়া ক্যানাল ঘাট এলাকায় আজ দুই দিন ধরে রোদ বৃষ্টির মধ্যে আটকা পড়ে আছি। কবে নাগাদ ফেরি পার হতে পারব তা কেউ বলতে পারছি না। এখনো সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে আছি। পাটুরিয়া ভাসমান কারখানার নির্বাহী প্রকৌশলী স্বদেশ প্রসাদ মন্ডল দৈনিক জনতাকে জানান, ভাসমান কারখানায় একটি ফেরি অচল অবস্থায় রয়েছে। ছোট-বড় ১৫টি ফেরির মধ্যে ১৩টি দিয়ে দৌলতদিয়াÑপাটুরিয়া নৌরুটে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। এদিকে ট্রাফিক অফিসার সার্জেন্ট উৎপল বলেন, যাত্রীবাহী বাস ও অপচনশীল ট্রাকগুলো অগ্রাধিকার পারাপার করা হয় এবং কোনো অনিয়ম হচ্ছে না। বাজেমালের ট্রাকগুলো সিরিয়ালের মতই রয়েছে। পরিবহন ও অপচনশীল গাড়িগুলো পারাপার শেষ হবে তার পর বাজেমালে গাড়ি পারাপার করা হবে। ট্রাক ড্রাইভার মালেক মোল্লা বলেন, দীর্ঘ সময় সিরিয়ালে থেকে এখনো ঘাট থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দুরে আছি। আজও হয়তো ফেরির নাগাল পাবো না। সময়ে মালগুলো যথাস্থানে না পৌছাতে পারলে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হবে। আটকে থেকে আমাদের দুর্ভোগ ও বাড়তি খরচ হচ্ছে। বিআইডাব্লিউটিসি’র দৌলতদিয়া ঘাটে ব্যবস্থাপক আবু আব্দুল্লাহ রণি জানান, নদীতে ¯্রােতের পাশাপাশি ফেরি সংকট দেখা দেয়ায় ঘাট এলাকায় যানবাহন আটকা পড়ছে। তবে মানুষের দুর্ভোগ কমাতে যাত্রীবাহী গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে পার করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *