ঠাকুরগাঁওয়ে হারিয়ে যাচ্ছে মৃত শিল্প-অসহায় কুমারেরা

গীতি গমন চন্দ্র রায় গীতি।।স্টাফ রিপোর্টার।। ঠাকুরগাঁওয়ের মৃৎশিল্পীরা কালের বিবর্তনে আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে প্রাচীন বাংলার জনপদের ঐতিহ্য মৃত শিল্প। ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ, রানীশনকৈল, বালিয়াডাঙ্গী,হরিপুর পাঁচ উপজেলায় মৃত শিল্পীদের খোঁজ নিতে গিয়ে দেখা যায়,মৃৎশিল্পীরা বর্তমান অসহায়, আগের মত এখন আর মানুষেরা মাটির জিনিস ব্যাবহার করছেনা তাই মৃতশিল্পী কুমারেরা সংসারী জীবনে হয়ে উঠেছে অসহায় দূর্বিসহ।
বৃহস্পতিবার বিকালে পীরগঞ্জ উপজেলার নাসিবগঞ্জ হাটে মৃতশিল্পী রামপাল কুমারের সাথে কথা বলে জানা গেছে তিনি বলেন মাটির জিনিস বাজারে নিয়ে আসি খুব কষ্ট করে, কিন্ত বাজারে তেমন বেচাবিক্রী নেই, সংসার জীবনে এ পেশা নিয়ে খুব কষ্টে পড়েছি।
এ-যুগে আধুনিকতার নামে এসে গেছে প্লাস্টিকের কত রকম হরেক মাল,তাছাড়া সিলভার, ও স্টীলের কত রকম জিনিস।
বর্তমানে অধিকাংশ মৃত শিল্প শুধু হিন্দু ধর্মের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান উৎসবে ব্যবহৃত হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,মৃৎশিল্পীরা মাটির হারি,পাতিল, কলস,বড়িয়া,ধুপদানী,তেলদানী,মাটির ব্যাংক,রুটি ভাজা তাবা,কড়াই,ডুকি,বিভিন্ন রংয়ের পুতুল ইত্যাদি।
আধুনিকতার ছোয়াতে এখন দই  ও বানাচ্ছে ওয়ান টাইম গ্লাসে,হোটেলে ও দইয়ের জন্য মৃত শিল্পের জিনিস ব্যবহার করছেনা।
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলার  গোপাল ঠাকুরের সাথে কথা হলে তিনি বলেন,আগে বিয়ে বাড়িতে মাটির থালা,গ্লাস ব্যবহার করা হতো সেখানে এখন ওয়ান টাইম প্লেট গ্লাস ব্যবহার করা হচ্ছে।
তবে সুশীল সমাজের ব্যাক্তিরা বলেন মৃত শিল্প আমাদের প্রাচীন বাংলার জনপদের ঐতিহ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *