ঝাড়ফুঁক করা উত্তম সুন্নত

মাওলানা মো: আবুল হাসান : কোনো ব্যক্তি নিজেই নিজেকে ঝাড়ফুঁক করতে কোনো বাধা নেই। এটা বরং উত্তম সুন্নত। অন্য কাউকে ঝাড়ফুঁক করে দেওয়াও জায়েজ। কেননা নবীজি (সা.) নিজে নিজেকে ঝাড়ফুঁক করেছেন এবং তিনি তার কোনো কোনো সাহাবীকেও ঝাড়ফুঁক করেছেন।

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন কোনো অসুস্থতা অনুভব করতেন তখন তিনি নিজের ওপর মুআওয়িযাত (সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক্ব, সূরা নাস) পড়ে ফুঁ দিতেন। যখন তার ব্যথা তীব্র হলো তখন আমি পড়ে তাকে ফুঁ দিতাম এবং তার হাত দিয়ে মাসেহ করতাম; তার হাতের বরকতের আশায়। [সহীহ বুখারী, হাদিস নং : ৪৭২৮; সহীহ মুসলিম, হাদিস নং : ২১৯২]

ঝাড়ফুঁক এমন মহৌষধ, যা একজন মুমিনের নিয়মিত গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়। একজন মুসলিম নিজেকে ও অন্যকে ঝাড়ফুঁক করার সময় শরিয়ত অনুমোদিত যে দোয়াগুলো পড়তে পারেন সেগুলো অনেক। সে দোয়াগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দোয়া ও আশ্রয়ণীয় হচ্ছে সূরা ফাতিহা।

আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নবীজি (সা.) এর একদল সাহাবী এক সফরে বের হন। এক পর্যায়ে তারা এক বেদুঈন মহল্লায় যাত্রা বিরতি করলেন এবং মহল্লার লোকদের কাছে মেহমানদারির আবদার করলেন। তারা মেহমানদারি করতে অস্বীকৃতি জানাল। ইতোমধ্যে মহল্লার সর্দারকে কোন কিছু কামড় দিল। তাকে সুস্থ করার জন্য তারা সব ধরনের চেষ্টা চালাল; কিন্তু কোনো কাজ হলো না। অবশেষে তাদের একজন বলল, এখানে যারা যাত্রা বিরতি করেছে আমরা তাদের কাছে যাই, হতে পারে তাদের কারও কাছে কোনো কিছু থাকতে পারে।

সাহাবীদের একজন বললেন : আল্লাহর শপথ! হ্যাঁ। আমি ঝাড়ফুঁক করি। তবে আমরা তোমাদের কাছে মেহমানদারির আবদার করেছি, কিন্তু তোমরা আমাদের মেহমানদারি করনি। আল্লাহর কসম! আমি ঝাড়ফুঁক করব না; যদি তোমরা আমাদের জন্য কোনো সম্মানি নির্ধারণ না করো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *