চৌগাছায় ট্রাক ড্রাইভারের মৃত্যু, স্বজনরা ভয়ে দাফন করতে আসেনি কেউ

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের চৌগাছায় খলিলুর রহমান (৪০) নামে এক ট্রাক চালক হঠাৎ বমি-পাতলা পায়খানার পর শ্বাসকষ্টে মারা গেছেন। তিনি শহরের ভাস্কর্য মোড়ের একটি টিনশেড বাড়িতে মাকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন।

শনিবার বিকাল চারটার দিকে ভাড়া বাড়িতেই তার মৃত্যু হয়। তবে এ রিপোর্ট লেখার সময় রাত নয়টা পর্যন্ত তার গোছল করানোর জন্য কাউকে পাওয়া যায়নি।

নিহতের মা জানান, শনিবার ভোররাতের দিকে তার কয়েকবার পাতলা পায়খানা হয়। সারাদিনেও কয়েকবার পাতলা পায়খানা হয়। দুপুরে কয়েকবার বমি করেন তিনি। এরপর শ্বাসকষ্ট হয়ে বাড়িতেই তার মৃত্যু হয়। তবে চারটার সময় মারা গেলেও পাশের বাড়িতেই ভাড়া থাকা নিহতের বড় ভাই জামাল উদ্দিন সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ওই বাড়ির সিমানাতেই যাননি।

শুধুমাত্র বৃদ্ধ মা লাশটি নিয়ে বসে থাকেন। এরপর সন্ধ্যা ছয়টা ১৫ মিনিটে চৌগাছা পৌর মেয়র নূর উদ্দিন আল মামুন হিমেল, হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. উত্তম কুমার, চৌগাছা থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই বিপ্লব রায়ের নেতৃত্বে পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা অগ্রযাত্রার আহবায়ক ব্যাবসায়ী হাসিবুর রহমান হাসিব, সাংবাদিক আজিজুর রহমান, এইচএম ফিরোজসহ ওই বাড়িতে যান। তখন মৃতের ভাইকেও ওই বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় বারান্দায় একটি খাটের উপর ওই ব্যক্তির লাশ রয়েছে। পাশে ঘরের দরজায় মেঝেতে বৃদ্ধ মা বসে আছেন। চিকিৎসক উত্তম কুমার ও মেয়র নূর উদ্দিন আল মামুন হিমেল যান লাশের কাছে। ডাক্তার উত্তম কুমার লাশটি দেখে স্ট্রোক করে মারা গেছেন বলে মতামত দেন। এর পর মেয়র হিমেল পৌর কবরস্থানে তাকে দাফন করার ব্যবস্থা করেন।

বড় ভাই জামাল উদ্দিন বলেন, তার ভাই অবিবাহিত। মাকে নিয়ে তিনি ওই বাড়িতে ভাড়া থাকেন। দুপুরে হঠাৎ কয়েকবার বমির সাথে শ্বাসকষ্টে তিনি মারা যান। তিনি বলেন, তাদের গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ছোট হারজি গ্রামে। তাদের পিতার নাম আব্দুল মকছেদ। তারা দির্ঘদিন ধরে চৌগাছায় বসবাস করেন। তিনি পেয়াজ ব্যবসায়ী। তার ভাই ট্রাক চালাতেন। তিনি বলেন, মৃত্যুর পরপরই আমি হাসিব ভাইকে খবর দিই। তিনিই সবাইকে জানিয়েছেন।

স্বেচ্ছাসেবী রক্তদান সংগঠন ‘অগ্রযাত্রা’র আহবায় ব্যবসায়ী হাসিবুর রহমান সেখানে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ওসি, এ্যসিল্যান্ড, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও পৌর মেয়রকে জানান। পরে মেয়র নূর উদ্দিন আল মামুন হিমেল, থানার সেকেন্ড অফিসার বিপ্লব রায়ের নেতৃত্বে পুলিশ সেখানে যায়। সন্ধ্যা ছয়টা পনের মিনিটে হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. উত্তম কুমার ওই বাড়িতে গিয়ে লাশ পর্যবেক্ষণ করে বলেন এটি হার্ট এ্যাটাকের মৃৃত্যু। করোনার কোন লক্ষণ নেই। এর পর মেয়র সিদ্ধান্ত দেন লাশ মাটি দেয়ার ব্যবস্থা করতে।

একটি সূত্র জানিয়েছে আগের রাতেও অন্য ড্রাইভারদের সাথে তিনি বেশি মাত্রায় স্পিরিট পকন করেন। এরপর বাড়ি গিয়ে ডিহাইড্রেশন শুরু হয় তার। একইসময়ে এ্যালকোহল পানে আরো দুজনেরও সমস্যা হয বলে ওউ সূত্র জানিয়েছে। তবে এরিপোর্ট লেখার সময়ে কবর খোড়ার ব্যবস্থা হলেও লাশের গোসল দেয়ার কোন লোক পাওয়া যায় নি। কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী গোসল দিতে রাজি হলেও পরে এ্যালকোহল পানে মৃত্যুর কথা শুনে তারা আর গোসল দিতে রাজী হয় নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *