কোয়ারেনটাইনের শর্ত না মানলে জেল-জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিদেশ থেকে দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের মধ্যে যারা স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশিত কোয়ারেনটাইনের শর্ত অনুসরণ করছেন না, তাদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের হুঁশিয়ারি দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ ব্যাপারে গতকাল একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। গণবিজ্ঞপ্তিতে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন ২০১৮ এর বিভিন্ন ধারা প্রয়োগ হতে পারে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই আইনের বিভিন্ন ধারা গণবিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিদেশ থেকে প্রত্যাগত কিছু প্রবাসী বা তাদের বা তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক আরোপিত কোয়ারেনটাইনের শর্ত সঠিকভাবে প্রতিপালন করছেন না। অনেকেই মিথ্যা তথ্য ও গুজব রটিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সকলকে বর্ণিত আইন অনুযায়ী এবং নির্দেশিত পন্থায় যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানাচ্ছে। এর ব্যত্যয় হলে আইনের সংশ্লিষ্ট শাস্তিমূলক ধারা প্রয়োগ হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন ২০১৮ এর ১ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, বাসগৃহ, অন্যান্য গৃহ, ক্লিনিক, হাসপাতাল এবং রোগ নির্ণয় কেন্দ্র বা কোনো স্থাপনায় সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সেবা প্রদান করলে বা অনুরূপ রোগে সংক্রমণের আধার হিসাবে বিবেচিত হলে উক্ত স্থান বা স্থাপনা পরিদর্শন ও তদনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

সংক্রামক রোগের তথ্য রয়েছে এইরূপ কোনো ব্যক্তিকে উক্ত রোগের বিষয়ে অধিদপ্তরের নিকট তথ্য প্রেরণের নির্দেশনা প্রদান এবং সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়েছেন এমন কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট হাসপাতাল, অস্থায়ী হাসপাতাল, স্থাপনা বা গৃহে অন্তরীণ (কোয়ারেনটাইন) রাখা বা পৃথক (আইসোলেসন) করতে পারবে।

সংক্রামক রোগের বিস্তার রোধে উড়োজাহাজ, জাহাজ, জলযান, বাস, ট্রেন ও অন্যান্য যানবাহন দেশে আগমন, নির্গমন বা দেশের অভ্যন্তরে এক স্থান হতে অন্য স্থানে চলাচল নিষিদ্ধ করতে পারবে।

আইনের ১০ ধারা অনুযায়ী যদি কোনো চিকিৎসক সংক্রামক রোগে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির চিকিৎসার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন এবং উক্ত রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি, কোনো বাসগৃহ, প্রাঙ্গণ বা এলাকায় সংক্রামক রোগে অস্তিত্ব সম্পর্কে অবহিত হন, তা হলে তাকে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জনকে জানাতে হবে। যদি কোনো বোর্ডিং, আবাসিক হোটেল বা অস্থায়ী বাসস্থানের মালিক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির যুক্তিসংগত কারণে ধারণা হয় যে, উক্ত স্থানে বসবাসকারী কোনো ব্যক্তি সংক্রামক রোগে আংক্রান্ত হয়েছেন, তা হলে অবিলম্বে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জন এবং জেলা প্রশাসককে অবহিত করতে হবে।

১১ ধারা অনুযায়ী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বা তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারীর কাছে যদি প্রতীয়মান হয় যে, যথাযথভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সংক্রামক রোগ সীমিত বা নির্মূল করা সম্ভব নয়, তা হলে তিনি সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে বা সংক্রমিত স্থানে অন্য কোনো ব্যক্তির প্রবেশ নিষিদ্ধ, সীমিত বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

১৮ ধারা অনুযায়ী, ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারীর নিকট যদি এইরূপ বিশ্বাস করিবার যুক্তিসংগত কারণ থাকে যে, কোনো যানবাহন সংক্রামক জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে বা তাতে সংক্রামক জীবাণুর উপস্থিতি রয়েছে, তা হলে তিনি উক্ত যানবাহন. জীবাণুমুক্তকরণের জন্য উক্ত গাড়ির মালিক বা স্বত্বাধিকারী বা তত্ত্বাবধায়ককে নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন।

২৫ ধারা অনুযায়ী, মহাপরিচালক, সিভিল সার্জন বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তার ওপর অর্পিত কোনো দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাধা প্রদান বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন এবং সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের উদ্দেশে মহাপরিচালক, সিভিল সার্জন বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কোনো নির্দেশ পালনে অসম্মতি জ্ঞাপন করেন, তা হলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হবে দ-নীয় অপরাধ। এই অপরাধে তিনি অনূর্ধ্ব ৩ মাস কারাদ-ে, বা অনূর্ধ্ব ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদ-ে, বা উভয় দ-ে দ-িত হবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *