ওপারে আটকে থাকা পেঁয়াজে পচন, দুশ্চিন্তায় এপারের ব্যবসায়ীরা

আসাদুজ্জামান আসাদ।৷ চারদিন অপেক্ষার পরও ভারত থেকে পেঁয়াজ ঢোকার কোন সুখবর দিতে না পারলেও রোদ-বৃষ্টি,গরমে আটকে থাকা পেঁয়াজে পচন ধরেছে এমন সংবাদ দিয়েছেন ওপারের ব্যবসায়ীরা।

‘সোমবার নিষেধাজ্ঞায় ভারতের পেট্রাপোল বন্দর এলাকায় আটকে পড়া পেঁয়াজের একটি অংশ পাঠাতে সন্মত হয়েছে ভারত সরকার’ এমন সংবাদের কোন সত্যতা না পেয়ে হতাশ ব্যবসায়ীরা। পেট্রাপোল বন্দর সিএন্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চ্যাটার্জি জানান, এখানে কী পরিমান পেয়াজের ট্রাক আছে তা দিল্লিকে জানানো হলেও দিল্লি থেকে এ ব্যাপারে কোন নির্দেশনা এখনো তারা পায়নি।

বেনাপোল শুল্কভবনের কমিশনার আজিজুর রহমান বলেন, এনবিআর ও বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের দু’টি চিঠি আমরা পেয়েছি। সে মোতাবেক আমরা সব সময় পেঁয়াজের চালান গ্রহন ও দ্রুত ছাড় করনের জন্য প্রস্তুত আছি।তবে ওপারে আটকে থাকা পেঁয়াজ কখন আসবে এব্যাপারে পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে কোন কিছুই জানায়নি।

বেনাপোলের বিপরীতে কী পরিমান পেঁয়াজ আছে জানতে চাইলে পেট্রাপোলের ব্যবসায়ীদের বরাতে বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেওয়ার পর পেট্রাপোল বন্দর অভ্যন্তরে ওই দিনই আটকা পড়ে পেঁয়াজ ভর্তি ০৫টি ট্রাক। যার গেটপাশ করা আছে। আর বনগাঁয় ৩৯টি ট্রাক দাড়িয়ে আছে। এছাড়া রানাঘাট রেলস্টেশনে তিনটি রেলের র‍্যাক বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। যার প্রতিটি র‍্যাকে ৪২টি করে ওয়াগন আছে।

“অন্তত সপ্তাহ খানেক আগে রেলের এই পেয়াজগুলো নাসিক কিম্বা অন্যরাস্ট্র থেকে রানাঘাট রেলস্টেশনে আনা হয়। এই রেল ওয়াগন সরাসরি বেনাপোলে আসবে না। ওখান থেকে ট্রাক বোঝাই করে বেনাপোল আনা হবে। আটকে থাকা এসব পেঁয়াজে পচন ধরেছে। দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করেছে বলে রফতানিকারকরা আমাকে জানিয়েছেন।”

সিএন্ডএফ এজেন্ট ‘রয়েল এন্টার প্রাইজ’ এর মালিক রফিকুল ইসলাম রয়েল জানান, প্রতিটন ২৫০ মার্কিন ডলার মূল্যে পেঁয়াজের ৭৪০মেট্রিক টনের ঋনপত্র (এলসি) দেওয়া আছে তাদের। সোমবার তাদের মাত্র একটি ট্রাক পেঁয়াজ বেনাপোলে ঢোকার পর বন্ধ হয়ে যায়। দু’একদিনের মধ্যে বন্দর এলাকায় থাকা পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাকের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত না হলে পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়ে যাবে। এতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরাই ক্ষতিগ্রস্থ হবেন।

ওপারের ব্যবসায়ীদের বরাতে বেনাপোল আমদানি রফতানিকারক সমিতির সহ সভাপতি আমিনুল হক বলেন, বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি করতে তাদের আপত্তি নেই। বাজার দরে এলসি পেলে তাঁরা পূনরায় রফতানি শুরু করবে। সে ক্ষেত্রে পুরানো যে সব এলসি দেওয়া আছে সে গুলো ২শ ৫০ মার্কিন ডলার সংশোধন করে সংশোধিত মুল্যে এবং নতুন এলসি ৭শ ৫০ মার্কিন ডলার করা হলে পেঁয়াজের আমদানি প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

ওপারের বন্দর এলাকায় আটকে পড়া পেয়াজগুলো বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের এলসির পেঁয়াজ এমনটি জানিয়ে আমিনুল বলেন, রোদ-বৃষ্টি, গরমে আটকে থাকা পেঁয়াজে পচন ধরেছে। দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করেছে।অনেকে ট্রাক নিরাপদ জায়গায় আনলোডের জন্য সরিয়ে নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ওপারের ব্যবসায়ীরা।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক মামুন কবির তরফদার বলেন, সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যেও পেঁয়াজ গ্রহনের জন্য আমরা সবসময় প্রস্তুত আছি। তবে এখনো পর্যন্ত পেট্রাপোল বন্দর আমাদেরকে কিছুই জানায় নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *