এবার মুখোমুখি অবস্থানে গণফোরামের দুই অংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভাঙনের পর এবার মুখোমুখি অবস্থান নিতে যাচ্ছেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও মোস্তফা মহসিন মন্টু অংশের নেতারা। আগামী ১৭ অক্টোবর সকাল থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভেতরে ও বাইরে আলাদা কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে দুই পক্ষ।

কামাল হোসেনের অংশ প্রেসক্লাবের ভেতরে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভা করবে। আর মন্টুদের অংশ একই সময় নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের প্রতিবাদে বাইরে মানববন্ধন করবে।

এদিকে শনিবার বিকালে কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটির প্রথম বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, ‘কামাল হোসেন আগামী ডিসেম্বরের কাউন্সিলে যোগ না দিলে গণফোরামের বিকল্প নেতৃত্ব বেছে নেবে।’

মন্টু বলেন, ‘ড. কামাল হোসেন শ্রদ্বেয় ব্যক্তিত্ব। উনি গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা, আমি গণফোরামে প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন। দলে যে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে তার জন্য ২৬ ডিসেম্বর কাউন্সিল হতে যাচ্ছে। এই কাউন্সিলে উনি (কামাল হোসেন) যোগ দেবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করতে চাই। কাউন্সিলে নেতা নির্বাচন করবে কাউন্সিলররা। কাউন্সিলররা যদি উনাকে নেতা নির্বাচন করেন আমরা বিনা দ্বিধায় তার সাথে কাজ করব কর্মী হিসেবে। আর উনি যদি না আসেন তাহলে সারাদেশের কাউন্সিলররা বিকল্প নেতৃত্ব ঠিক করবেন। কারণ সংগঠন তো একটা জায়গায় বসে থাকতে পারে না।’

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়ার সঙ্গে মোস্তফা মহসিন মন্টু, সুব্রত চৌধুরী ও আবু সাইয়িদদের বিরোধের জেরে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টভুক্ত দলটি ভাঙনের মুখে পড়ে। কামাল হোসেনের অনুপস্থিতিতে গত ২৬ সেপ্টেম্বর দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বর্ধিত সভা করে আগামী ২৬ ডিসেম্বর জাতীয় কাউন্সিলের ঘোষণা দেন তারা। পাশাপাশি রেজা কিবরিয়াসহ চার নেতাকে বহিষ্কারেরও ঘোষণা দেন মন্টু-সুব্রতরা।

গণফোরামের বিগত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, ‘আমরা দেশে গণতন্ত্র চর্চার কথা বলি। সেজন্য আমাদের দলে সেই কাজটি শুরু করতে চাই। আমরা আশা করব, গণফোরাম যে আদর্শ ও দর্শন নিয়ে ১৯৯৩ সালে ২৯ আগস্ট যাত্রা শুরু করেছিল সেটা সম্মুন্নত রাখতে আমরা সকলে সম্মিলিতভাবে সম্মেলনের জন্য কাজ করব। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, গুলশানভিত্তিক সংগঠন পরিচালনা কিংবা ব্যক্তিকেন্দ্রিক সংগঠনের কাজ মেনে নেয়া হবে না।’

আর গত মার্চে বিলুপ্ত কমিটির নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেন, ‘আমাদের গঠনতন্ত্রের ১৪ ধারায় বলা আছে, কাউকে বহিষ্কার করতে হলে, দল থেকে দূরে রাখতে হলে এবং নিষ্ক্রিয় করে দিতে হলে এবং নিষ্ক্রান্ত করতে হলে সেখানে কেন্দ্রীয় কমিটির বর্ধিত সভার সেই ক্ষমতা আছে এবং কোনো ব্যক্তি তিনি যত বড়ই হোক না কেন, যে পদেই থাকুক না কেন তার সেই এখতিয়ার নেই।’

আরামবাগে ইডেন কমপ্লেক্স এলাকায় গণফোরামের কার্যালয়ে সম্মেলন প্রস্তুতির এই সভা হয়। সভায় ১৪টি সাব-কমিটি গঠন করা হয়।

এদিকে ১৭ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবে এই সভা হবে জানিয়ে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া বলেনন, ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টায় আমরা এই সভা শুরু করব। গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন ভার্চুয়ালি যোগ দেবেন। কারণ করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে আমরা আমাদের নেতাকে সেইভ রাখতে চাই। এই আহ্বায়ক কমিটির কিছু কাজ রয়েছে, সাংগঠনিক কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া আছে যা আমরা এই সভায় অনুমোদন করব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *