আলমডাঙ্গার জামজামি ইউনিয়নে সরকারী গাছ কাটার হিড়িক, নেপথ্যে ইউপি চেয়ারম্যানের হাত আছে বলে অভিযোগ

আলমডাঙ্গা অফিসঃ আলমডাঙ্গার জামজামি ইউনিয়নে বেশ কিছুদিন ধরেই সরকারী রাস্তার গাছ কেটে সাবাড় করছে দুবৃত্তরা। এমন খবর পেয়েও উপযুক্ত প্রমানের অভাবে পুলিশ প্রশাসন কোন পদক্ষেপ নিতে পারছিল না। গত রোববার আলমডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে জামজামি ভাদু মন্ডলের কাঠের মিলে মধুপুর গ্রামের মৃত সাদেক মন্ডলের ছেলে কাঠ ব্যাবসায়ী সোহরাব ব্যাপারী কিছু অবৈধ্য শিশু গাছের গুড়ি রেখে গেছে। আলমডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ বিষয়টি জামজামি ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই আনিছুর রহমানকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে সন্ধার একটু আগে ক্যাম্প ইনচার্জ ফোর্স নিয়ে মিলে হাজির হয়। এবং বর্ননা অনুযায়ী শিশু গাছের ৪ টি গুড়ি দেখতে পায়। আইসি আনিছুর রহমান বারবার মিলের সবাইকে জিঙ্গেস করে এই কাঠ কার? প্রথমে কেহ উত্তর না দিলেও পরে সবাই বলে এই কাঠ ইউপি চেয়ারম্যানের। ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ওখানেই ছিল, সে এগিয়ে গিয়ে বলে কাঠ আমার রাস্তার ধারে হেলে পড়েছিল শিশু গাছটি। জনগনের যাতায়াতের অসুবিধা হচ্ছিলো বিধায় কেটে নিয়ে এসেছি।ক্যাম্প ইনচার্জ বলে সরকারী গাছ আপনি ইচ্ছা করলেই কাটতে পারেন না। এক পর্যায়ে পুলিশ অফিসার ও ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যে ব্যাপক বাক বিতন্ডা হয়। বিষয়টি রাতেই আলমডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জকে অবহিত করেন জামজামি আইসি। এ খবর পেয়ে সকাল ১০ টার দিকে আলমডাঙ্গার বেশ কয়েজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এলাকার জনগনের সহযোগীতায় গলাইরশি- শ্রীনগর রাস্তার পাশে বিভিন্ন সময় কেটে নেওয়া গাছের ছবি তোলেন এ ছাড়াও আলমডাঙ্গা-জামজামি রাস্তার পাশে থাকা বেশ কয়েকটি কেটে নেওয়া গাছের চিহ্ন দেখতে পায়। এ সময় এলাকার জনগন অভিযোগ সহকারে বলেন সোহরাব ব্যাপারী বেশ কিছুদিন ধরে রেন্টি কড়ই, ইপিলিপিল, শিশু গাছ সহ এলাকার রাস্থার ধারে থাকা বেশকিছু দামী গাছ সাবাড় করে চলেছে। এবং এর পিছনে ইন্ধনদাতা সয়ং আমাদের ইউপি চেয়ারম্যান।  এ ব্যাপারে জামজামি ক্যাম্প ইনচার্জ আনিছুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন একজন ইউপি চেয়ারম্যান অর্থাৎ নজরুল ইসলাম আমাকে গাছ কাটার বিষয় নিয়ে কথা বলতে গেলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। যা একজন জনপ্রতিনিধির মুখে মোটেই শোভা পায় না। আলমডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ মুন্সি আসাদুজ্জামান বলেন, সরকারী গাছ কাটা বিশাল অপরাধ সে অপরাধী যেই হোক না কেনো তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *