অস্ত্র মামলায় শামীম-খালেদের বিরুদ্ধে চার্জশিট

নিজস্ব প্রতিবেদক : অস্ত্র মামলায় যুবলীগ নেতা (বহিষ্কার)খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ও ঠিকাদার জি কে শামীমের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

আদালত ষূত্রে জানা যায়, আজ রবিবার শামীম ও তার সাত দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় অভিযোগপত্র জমা দেন র‌্যাব-১–এর উপপরিদর্শক (এসআই) শেখর চন্দ্র মল্লিক।

এর আগে গত ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন র‌্যাব-৩–এর সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) বেলায়েত হোসেন।

শামীম ও তার সাত দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগপত্রে শামীমকে একজন চিহ্নিত চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, অবৈধ মাদক ও জুয়ার ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত বলে উল্লেখ করা হয়। তাতে বলা হয়, তার সহযোগীরা উচ্চ বেতনভোগী দুষ্কর্মের সহযোগী। তারা অস্ত্রের লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করে প্রকাশ্যে অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন করেছেন। এর মাধ্যমে জনমনে ভীতি সৃষ্টি করে টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসাসহ স্থানীয় বাস টার্মিনাল ও গরুর হাটে চাঁদাবাজি করতেন।

গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশানের নিকেতনে অভিযান চালিয়ে জি কে শামীম ও তার সাত দেহরক্ষীকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। দেহরক্ষীরা হলেন নওগাঁর দেলোয়ার হোসেন, গোপালগঞ্জের মুরাদ হোসেন, বাড্ডার জাহিদুল ইসলাম, যশোরের শহিদুল ইসলাম, ভোলার কামাল হোসেন, নীলফামারীর সামসাদ হোসেন ও বাগেরহাটের আমিনুল ইসলাম।

অন্যদিকে খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০১২ সালে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার খালেদ মাহমুদ বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলেন। মতিঝিলের ইয়ংমেনস ক্লাব, আরামবাগ ক্লাবসহ ফকিরাপুলের অনেক ক্লাবে ক্যাসিনোর আসর বসিয়ে মাদক ব্যবসাসহ নানা অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে আসছিলেন তিনি।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, খালেদ খিলগাঁও-শাজাহানপুর চলাচলকারী গণপরিবহন এবং কোরবানির ঈদের সময় শাজাহানপুর কলোনি মাঠ, মেরাদিয়া, কমলাপুর ও সবুজবাগ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেখান থেকে চাঁদা আদায় করতেন। রাজউক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, রেল ভবন, ক্রীড়া পরিষদ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, যুব ভবন, কৃষি ভবন, ফকিরাপুলসহ বেশির ভাগ এলাকার টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। আর এসব করার জন্য গড়ে তোলেন বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, দুটি অস্ত্রের লাইসেন্সে ৫০টি করে গুলি কেনার হিসাব থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তার হেফাজত থেকে শটগানের সাতটি ও পিস্তলের নয়টি অতিরিক্ত গুলি জব্দ করা হয়। অস্ত্রগুলো ২০১৭ সালের পর নবায়ন করা হয়নি। অবৈধ টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা পরিচালনার জন্য খালেদ এসব অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করতেন।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর দিনই মাদক, অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হন খালেদ মাহমুদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *