অবশেষে ডাক পড়লো স্বাস্থ্য মহাপরিচালকেরও

ঢাকা অফিস : গত বছর দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। যে অভিযোগে গত বছর তাকে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তলব করার কথা ছিল, এবার সেই অভিযোগে নয়,বরং অন্য একটি দুর্নীতির অভিযোগে স্বাস্থ্য মহাপরিচালককে দুদকের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

মহাপরিচালক ও তার সিন্ডিকেটের দুর্নীতির অনুসন্ধান দাবি করে জনৈক মো. খালেক মিয়া গত বছরের ১৯ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালকের (বিশেষ তদন্ত-১) কাছে চিঠি পাঠান।

ওই চিঠিতে ডা. আজাদ ও তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দরপত্র নিয়ন্ত্রণ, পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়া, অর্থপাচার, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়।

চিঠিতে ডা. আজাদের সিন্ডিকেটের সদস্য হিসেবে আরও যাদের নাম উল্লেখ করা হয়, তারা হলেন— স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক ডা. কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন, অধ্যাপক আব্দুর রশীদ, সহকারী পরিচালক (বাজেট) ডা. আনিসুর রহমান ও মেডিক্যাল এডুকেশন শাখার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আবজাল হোসেন ও তার স্ত্রী শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন শাখার সাবেক স্টেনোগ্রাফার রুবিনা খানম। এই রুবিনা খানম ‘রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা রয়েছে।

মহাপরিচালক ডা. আজাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, পৃষ্ঠা -১ চিঠিতে বলা হয়, ডা. আজাদের সিন্ডিকেট ‘রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল’ এর নামে স্বাস্থ্য অধিদফতরভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করছে।

গত বছরের ২৪ জুলাই ওই চিঠিটি দুদকের নথিভুক্ত করা হয়। ১৯ আগস্ট চিঠিটি যাচাই-বাছাই কমিটির কাছে পাঠানো হয়। যাচাই-বাছাই কমিটি চিঠিতে উল্লেখ করা দুর্নীতির বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে অনুসন্ধানের সুপারিশ করে।

অনুসন্ধানে নেমে দুদক শুধু মেডিক্যাল এডুকেশন শাখার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আবজাল হোসেনের তথ্যই সামনে এনেছে। জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি এবং ব্যাংক হিসাবও জব্দ করেছে দুদক। দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা আছে তার।

অন্যদের মধ্যে ডা. কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন, অধ্যাপক আব্দুর রশীদ, সহকারী পরিচালক (বাজেট) ডা. আনিসুর রহমানকে দুদকে তলব ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আর ডা. আবুল কালাম আজাদ ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যান।

মহাপরিচালক ডা. আজাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, পৃষ্ঠা-২

তবে ওই ঘটনায় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেলেও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের আসবাবপত্র কেনাকাটায় প্রায় ২১ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে ডা. আবুল কালাম আজাদকে দুদকের মুখোমুখি হতে হয়েছে। রবিবার (১২ মে) রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কার্যালয়ে দুদকের চট্টগ্রাম-২ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মাহবুবুল আলম ও সহকারী পরিচালক রতন কুমার দাশ জিজ্ঞাসাবাদ করেন তাকে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় আবুল কালাম আজাদ দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি জানান, দুদককে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছেন তিনি। ডা. আজাদ বলেন, ‘ঘটনাটি কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক হলেও সেখানকার দুর্নীতির দায় নেই তার।’

তবে দুদকের চট্টগ্রাম-২ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মাহবুবুল আলম বলেন, ‘দুর্নীতির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে বলেই মহাপরিচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *